সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগকে অনেকে ‘ভাইরাল’ যুগ বলে সম্বোধন করে। এই যুগে ভাইরাল হয়ে অনেকেই রাতারাতি তারকা বনে গেছেন। কুকীর্তি ফাঁস হয়ে বিখ্যাত অনেকেই খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিষয় ভাইরাল হলে এটি সমাজের একটি বড় অংশকে নাড়া দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই ভাইরাল হওয়ার ব্যাপারটি কীভাবে এলো, কেন এর নাম ভাইরাল হলো আর ভাইরাল হওয়ার সূত্রটাইবা কী? এসব নিয়ে লিখেছেন আল আমীন

প্রশ্ন হলো– ‘ভাইরাল’ শব্দটি কি কেবল এই ডিজিটাল যুগেরই ফসল? অতীতে কি কোনো কিছু ভাইরাল হতো না? হ্যাঁ, হতো। আগেকার দিনেও অনেক কিছুই ভাইরাল হতো। তখনকার দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না থাকলেও অন্যভাবেও ভাইরাল হতো। তবে তফাৎ এতটুকুই যে, সে সময় হয়তো কোনো কিছু এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত না। হতো ধীরে ধীরে। আর সে সময় হয়তো ‘ভাইরাল’ শব্দটির প্রচলন ছিল না। আসল তফাৎটাই এখানে।

তাহলে কীভাবে এলো এই শব্দটি?

এই আলোচনায় আসার আগে আরও কিছু বিষয় জেনে নেওয়া যাক। যেমন– ভাইরাল শব্দের শাব্দিক অর্থ কী? খোলাসা করে বলতে গেলে এটির শাব্দিক অর্থ নেই বললেই চলে। এটি কেবল ভাবার্থেই ব্যবহৃত হয়।

এই শব্দটির উৎপত্তি হলো ‘ভাইরাস’ শব্দ থেকে। আর ভাইরাস শব্দটি মূলত ইংরেজি বর্ণমালার V, I, R, U এবং S-এর সমন্বিত রূপ, যেগুলো আলাদাভাবে পূর্ণাঙ্গ একেকটি শব্দ। অর্থাৎ ভাইরাস শব্দটি একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যার পূর্ণরূপ হলো, ‘Vital Information Resources Under Seize’ (ভাইটাল ইনফরমেশন রিসোর্সেস আন্ডার সিজ)।

অর্থাৎ ভাইরাস (Virus) শব্দটিকে Noun (বিশেষ্য) ধরে এটির Adjective বা গুণবাচক শব্দ (বিশেষণ) হিসেবে ব্যবহার করা হয় ভাইরাল (Viral) শব্দটি।

আর ভাইরাস শব্দটি যেহেতু দূষণ, জীবাণু বা বিষাক্ত– এ ধরনের অর্থে ব্যবহার করা হয় এবং ভাইরাস যেহেতু খুব দ্রুতই ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়ে বা বিস্তার লাভ করে, তাই হঠাৎ সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া কোনো বিষয় বা ইস্যুকেই ‘ভাইরাল’ বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৭ সালে গুগল, ইউটিউব, ফেইসবুকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বা খোঁজ করা শব্দগুলোর মধ্যে ভাইরাল শব্দটি অন্যতম। গুগল ট্রান্সলেটরে যার আভিধানিক অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভাইরাসঘটিত’ এবং ব্যবহারিক অর্থ হিসেবে– বিষপূর্ণ, বিষাক্ত, দূষিত, দুষ্টু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই ‘ভাইরাল’ শব্দটি ভাইরাল হওয়ার আগেও কিন্তু এর ব্যবহার ছিল, যেমন– ভাইরাল ফিভার/জ্বর বা এই ধরনের শব্দে। আর রোগ-জীবাণু বা কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ভাইরাস শব্দটির ব্যবহার তো ছিলই।

সামাজিকমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ শব্দটি কীভাবে এলো?

অনলাইনে সর্বপ্রথম ভাইরাল শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, একজন মার্কিন লেখক। তার নাম সেথ গোডিন। ‘আনলিশিং দ্য আইডিয়াভাইরাস’ শিরোনামে তিনি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। ২০০০ সালের ৩১ জুলাইয়ের ঘটনা। ফাস্ট কোম্পানি ডটকমে প্রকাশিত হয় লেখাটি। সেখানে একটি লাইন ছিল এ রকম, Have the Idea behind your online experience go viral… (হ্যাভ দ্য আইডিয়া বিহাইন্ড ইয়োর অনলাইন এক্সপেরিয়েন্স গো ভাইরাল...)।

সেই থেকে শুরু। ভাইরাল হয়, ‘ভাইরাল’ শব্দটি। এখন তো সেলিব্রিটির বিয়ের ছবি থেকে শুরু করে হিলারি ক্লিনটনের গোপন ফোনালাপ এমনকি গাঁও-গ্রামের প্রেমকাহিনীও ভাইরাল হয়।

আজকাল তো ভাইরাল শব্দটিই একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে যেমন শুধু পপুলার বা বিখ্যাত হওয়ার জন্য নিজেই ভাইরাল হওয়ার চেষ্টায় থাকেন। আর এর অংশ হিসেবে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছবি, ভিডিও কিংবা কোনো বক্তব্য– এগুলো নির্মিত হোক বা গোপনে ধারণ করা স্ক্যান্ডাল ভিডিও হোক। কেউ ভাইরাল হচ্ছেন নিজেই, কেউ হচ্ছেন অন্যের ফাঁদে পড়ে। ভাইরাল শব্দটির এখন হাজার রূপ। এর যেমন খারাপ দিক রয়েছে, রয়েছে ভালো দিকও।

ভাইরালিজমের এই যুগে কেউ রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ সেলিব্রিটি থেকে খলনায়কে পরিণত ভক্তদের কাছে। কারণ কেউ একটা খারাপ জিনিস করলেই সেটা সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দিচ্ছে বা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনোভাবে। আবার কেউ কেউ অন্যের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে তার সম্পর্কে গোপন তথ্য ভাইরাল করে দিচ্ছে। এমনকি আত্মহত্যার মতো বিষয়টির ভিডিও আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ইন্টারনেটের প্রথম ‘ভাইরাল’

ফেইসবুক, ইউটিউবের তখনো জন্ম হয়নি। ১৯৯৭ সালের ঘটনা এটি। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় (সিসি ক্যামেরা) ধারণ করা একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এই ভিডিওতে দেখা যায়– এক বিশাল বপু ও গোঁফওয়ালা এক মার্কিন চাকুরে বসে আছেন বিশাল এক সিআরটি মনিটরের সামনে। তার নাম ভিনি লিচিআরডি। কাজ করছেন তিনি। কিন্তু কি-বোর্ডে রীতিমতো ঝড় তুলেও সুবিধা করতে পারছেন না। তার ‘কমান্ড’ কাজ করছে না। একসময় রাগে-ক্ষোভে কি-বোর্ডটি হাতে তুলে নিলেন তিনি। আঘাত করলেন মনিটরে। টেবিল থেকে মনিটর পড়ে গেল। তখনো রাগ কমল না তার। পাশের ডেস্কের সহকর্মী মাথা উঁচিয়ে বিষয়টি অঁাচ করার চেষ্টা করলেন। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে এবার তিনি লাথি মেরে বসলেন মনিটরে। ২৫ সেকেন্ডের এই ‘ব্যাড ডে’-ই প্রথম ভাইরাল ভিডিও হিসেবে স্বীকৃত। আর ভিডিওটি ছড়িয়েছিল ই-মেইলে। এরপর ভিডিওটি ছড়াতে ছড়াতে সিএনএন, এনবিসি টিভি থেকে শুরু করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলোর ‘হট টপিক’ হয়ে ওঠে। এই ভাইরালের সূত্র ধরে উঠে আসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের কর্মক্লান্তিজনিত ইস্যু।

ভিডিওটি যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে, তা এক বছর পর টের পেয়েছিলেন ভিনি লিচিআরডি। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের লোরোনিক্স ইনফরমেশন সিস্টেমস নামের এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শিপিং ম্যানেজার ছিলেন তিনি।

ভাইরাল যুগের ভালো-মন্দ

ভাইরালিজমের এতসব কাহিনীকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ভালোত্ব এবং মন্দত্ব– দুটিই। যেমন– এক ভাইরাল ভিডিওর কারণে উগান্ডার কুখ্যাত অপরাধী জোসেফ কোনিকে চিনেছিল বিশ্ব। ২০১২ সালে ‘কোনি ২০১২’ নামে এক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন মার্কিন নির্মাতা জেসন রাসেল। এর প্রধান চরিত্র ছিল জ্যাকব, যার বড় ভাইকে মেরে ফেলে লর্ড’স রেজিস্ট্যান্স আর্মির (এলআরএ) নেতা জোসেফ কোনি। কেবল জ্যাকবের ভাইকে নয়, কোনি এমন হাজারো শিশু-কিশোরকে মেরে ফেলেছিল। শুধু তাই নয়, অসংখ্য শিশু-কিশোরকে বিদ্রোহী দল এলআরএতে যোগ দিতে বাধ্য করেছিল সে। চালায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। কায়েম করে সন্ত্রাসের রাজত্ব। মেয়েশিশুদের ওপর চালায় যৌন নির্যাতন। সন্তানদের দিয়ে হত্যা করে অসংখ্য মা-বাবাকে।

ভাই হারানো জ্যাকবের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই কোনির বিচারের আশায় তথ্যচিত্র নির্মাণে হাত দেন রাসেল। অবশেষে, ২০১২ সালে ওই ভিডিও ভাইরাল হলে মার্কিন কর্তারাও নড়েচড়ে বসেন। আমেরিকা থেকে উগান্ডায় বিশেষ বাহিনীও পাঠানো হয় কোনিকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতার জন্য। ইউটিউবে সে সময় ‘কোনি ২০১২’ প্রামাণ্যচিত্রটি ছিল সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিও। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায়ও সবচেয়ে ভাইরাল ভিডিও হিসেবে উঠে আসে ‘কোনি ২০১২’-এর নাম। এক জরিপে দেখা যায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক তরুণ কোনি সম্পর্কে জানতে পারে। শেষমেশ যদিও জোসেফ কোনি অধরাই থেকে যায়। তবে তার বাহিনী বিলুপ্তির পথে এবং উগান্ডার শিশু-কিশোররা এখন শঙ্কামুক্ত।

ভাইরাল হওয়ার সূত্র কী?

এখানেই থেমে নেই ভাইরাল বৃত্তান্ত। মানুষ এখন রীতিমতো ভাইরাল হওয়ার চর্চাও করে। ফোর্বস ও আপওয়ার্কের দুটি লেখায় ভাইরাল পোস্টের কিছু সূত্রও তুলে ধরা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে বিশেষ কিছু পরামর্শ। লেখা দুটি অনুযায়ী, কীভাবে ভাইরাল হয় বা হতে হয়, সে জন্য যে টিপসগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই বলা হয়েছে ‘ইতিবাচকতা’র কথা। কারণ ইতিবাচক বিষয় সবাইকে টানে। যেকোনো ভালো কাজের ছবি, লেখা, ভিডিও সবার কাছে সমাদৃত। এরপর বলা হচ্ছে সম্পর্কের কথা। কারণ, যেকোনো পোস্টের বিষয় নিজের সঙ্গে মিলে গেলে মানুষ একাত্মবোধ করে। শেয়ার করতেও দ্বিধা করে না।

এরপর এসেছে আবেগের বিষয়টি। কারণ, মানুষ যে বিষয় যত বেশি ভালোবাসে, সেটি শেয়ারও করে ততটাই। এ ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট আপলোড করা হলে ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পোস্টের সময় বা টাইমিংয়ের বিষয়টিকে। পোস্টের সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তাকে, ব্যক্তির লাভ কিংবা বৈশ্বিক উপাদান বা সমসাময়িক আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকেও উল্লেখ করা হয়েছে ভাইরাল হওয়ার মতো পোস্ট হিসেবে।

শুধু ভাইরাল হওয়ার টিপস দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি মানুষ। এ নিয়ে চলেছে রীতিমতো গবেষণাও। আর কোন বিষয়গুলো ভাইরাল হয়? কেন হয়? সেগুলোর পেছনে অবশ্যই কিছু ব্যাপার রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক জোনাহ বার্গার। তার ভাষায় এই ফ্যাক্টরগুলোকে একসঙ্গে বলা হয়– S T E P P S, যা ছয়টি বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা। তার মতে, একটি কনটেন্ট এই ছয়টি বৈশিষ্ট্যের যতগুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকবে, কনটেন্টটি ততটাই ভাইরাল হবে। এই STEPPS-এর পূর্ণরূপ বা শর্তগুলো হলো : Social currency, Triggers, Emotion, Public, Practical Value, Stories।

আরেকটু খুলে বললে ব্যাপারটি এমন দাঁড়ায়, যে– আমরা তাই শেয়ার করি, যা আমাদের একটি নির্দিষ্ট ইমেজ দেয় আমরা প্রত্যেকেই প্রতিনিয়ত নিজের একেকটি পার্সোনালিটি তুলে ধরার চেষ্টা করি। সবাই যে যার জায়গা থেকে নিজেকে ফোকাস করার চেষ্টা করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিভিন্ন ধরনের মানুষ তার নিজস্ব ভালো লাগার জিনিস, নিজস্ব রুচিমতো বিষয়গুলোয় শেয়ার করে থাকে। তাই একেকটি নির্দিষ্ট ধরনের মানুষ যখন তার টাইপমতো কনটেন্ট সামনে পায় তাই-ই শেয়ার করা শুরু করে, ভাইরাল হয় ওই ধরনের বিষয়গুলো।

আবার নির্দিষ্ট সময় বা পরিবেশে নির্দিষ্ট কনটেন্ট বেশি শেয়ার করার প্রবণতা দেখা যায়। ধরা যাক, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের ক্রিকেট খেলা চলাকালীন সময়ের কথা। নিউজফিড জুড়ে তখন প্রায়ই দেখা যায় ক্রিকেট, ক্রিকেটার এবং ম্যাচ-সম্পর্কিত পোস্ট। আবার কোরবানি ঈদের সময় গরুবিষয়ক মজার কোনো গান অথবা ছবি শেয়ার করা হয় হাজার হাজার! ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাবিষয়ক কনটেন্ট বেশি শেয়ার করে থাকে, কর্মজীবীরা কর্মদিবসগুলোতে অফিস নিয়ে মজার পোস্টগুলো বেশি শেয়ার করে।

এরপর আসি, ইমোশন বা আবেগের বিষয়ে। মানুষ তাই শেয়ার করতে পছন্দ করে, যার ব্যাপারে সে কেয়ার করে, সঙ্গে কোনো আবেগ জড়িত। আবেগ তীব্র এবং মৃদু দুই ধরনের হতে পারে। এমন হয়তো হয় যে, কেউ কেউ তীব্র আবেগগুলোকে নাড়া দিতে পারে এমন ভিডিও, ছবি, গান বা আর্টিকেল অপেক্ষাকৃত বেশি শেয়ার করে। অর্থাৎ, মানুষের শেয়ার করার সঙ্গে কনটেন্টটি কী ধরনের আবেগকে তাড়িত করল, তার একটা সম্পর্ক রয়েছে।

মানুষের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অন্যকে ফলো করা বা ট্রেন্ড ফলো করা। একজন কিছু করেছে দেখলে, সেটা অন্যজনও কারণে বা অকারণে অন্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য হলেও সেটি করে ফেলে। একেকটা ইস্যুতে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষই নিজের মতামত নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঝাঁপিয়ে পড়েই বলতে হয়। কারণ, বিভিন্ন সময় চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে এমন এমন মানুষকে এমন এমন মন্তব্য বা মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায়, যারা ওই বিষয়ে কোনো জ্ঞানই রাখেন না।

অনেক কারণেই তারা এমনটি করে থাকেন, তার অন্যতম একটি কারণ হলো ট্রেন্ড ফলো করার প্রবণতা। আর এটিই একেকটি বিষয়কে ভাইরাল করে তোলে।

আবার যেসব বিষয়াবলি দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্ব বহন করে থাকে, মানুষ তাই শেয়ার করে থাকে। মাঝে মাঝে দেখা যায়, কোনো বিষয় কোনো ধরনের আবেগকে তাড়িত না করেও, এমনকি কোনো ট্রিগারের বালাই না করেও যথেষ্ট পরিমাণে শেয়ার করা হচ্ছে। সেগুলোর প্রকৃতপক্ষে এমন একটি ভ্যালু আছে, যেগুলো ওই শেয়ার করা ব্যক্তির জীবনের বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগছে।

আরেকটি বিষয় হলো– স্টোরি বা গল্প। গল্প শুনতে এবং বলতে– দুটিই করতে আমরা ভালোবাসি। আর সেটি যদি হয় কোনো স্পর্শকাতর গল্প, তাহলে তো কথাই নেই।