Skip to main content
Roton Kumar Roy
Asked a question 7 months ago

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ভয়াবহ গণহত্যার এখনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করা যাচ্ছে না কেন?

কোথায় আপনি?

এই MSB Ask কমিউনিটিতে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবেন, উত্তর দিতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তাই নতুন হলে সাইনআপ করুন, আর আগেই থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগিন করুন।  

Wasimul Haque Anis
নতুন তথ্যর সন্ধানে,

সম্ভাব্য কারন গুলো হতে পারে

১.বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হয়েছে খুবই কম

২.বাংলাদেশের গণহত্যা সম্পর্কে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মৌলিক গবেষণা নেই।

৩.বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায় এই গণহত্যা নিয়ে মাথা খামাচ্ছে না এবং আলোচনা করছেনা দেশে এবং বিদেশে।

৪.বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র সহ প্রভাবশালী কিছু রাষ্ট্র তাদের উল্লেখযোগ্য নিরবতা এই স্বীকৃতির বিপক্ষে কাজ করছে

৫.মুক্তিযুদ্ধের নির্যাতন ও সামগ্রিক ঘটনার ইতিহাস বিকৃতি ঘটেছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্বাসযোগ্যতার কমতি হচ্ছে।

৬.বাংলাদেশের সরকার এই গণহত্যাটিকে সেভাবে স্বীকৃতি পাওয়ানোর জন্য তেমন চেষ্টা করা হয়নি

Mohammad Alif
Digital Marketer | Philosophy Enthusiast

US এর হাত থাকায় 

১৯৭১ সালের ২৫ শেষ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদারদের গণহত‍্যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়ার কিছু কারণ:

  1. ঘরশত্রু: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও (পূর্ব পাকিস্তানের) একটা বিরাট অংশ সেই স্বাধীনতা চায়নি, তাদের বংশধররাই কীবোর্ড-জেহাদী হয়ে পাক-প্রেম দেখায়। কাজেই তারা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের পথে বড় বাধা। এই গৃহশত্রুকে না সামলাতে পারলে সেই স্বীকৃতি জোটা কষ্টসাধ্য।
  2. সাধারণীকরণ: পশ্চিমা বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যে নরসংহারের খবর শুনতে অভ্যস্ত, তাদের অনেকের মনে হয় এই গণহত্যা আলাদা কোনো উল্লেখ্য ঘটনা নয়!
  3. জাতি/বর্ণ-ভেদ: একেই এশিয়া, তার উপর ভুক্তভোগীরা সাদা চামড়ার নয়! কাজেই তাদের জীবনের গুরুত্ব পশ্চিমের মিডিয়ার কাছে আপন দেশের মানুষের তুলনায় নগন্য। দেশটা জাপান/কোরিয়া হলেও বা হত!
  4. ধর্মের সেন্সেশনালাইজেশন: তদুপরি এটা ছিল মুসলিমদের হাতে মুসলিম হত্যা, মানে খবরকে মশলাদার বানানো যাবে না! শিকার আর শিকারীর মধ্যে একজন মুলসিম আর অন্যজন অমুসলিম হলে একটা জম্পেশ ন্যারেটিভ বানিয়ে কাউকে নোবেল দিয়ে, কাউকে খলনায়ক বানানো যেত!
  5. যতদূর জানি বাংলাদেশের বর্তমান সরকার গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের এই চেষ্টা চালাচ্ছে, আগেকার দলের সরকার বা এখনকার মুখ্য বিরোধীরা কিন্তু ততটা আগ্রহী ছিল না/নয়!
  6. ভুল ন্যারেটিভ: ভারত আর বাংলাদেশের পাকপ্রেমীরা (অতিবাম সমেত) মুক্তিযুদ্ধকালের গণহত্যা হোক, বা তদপরবর্তী বালুচনিধন অথবা কাশ্মীরি পণ্ডিত নিধন, হতাহতের সংখ্যাকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করে। যেমন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই মৃতের সংখ্যা মাত্র ৩০০০০, বালুচিস্তানে আর কাশ্মীরে মাত্র কয়েকশো দাবি করা হয়! এক্ষেত্রে ভাল ডকুমেন্টেশনের অভাব তাদের হাতিয়ার
  7. তবুও ভারত এই ব্যাপারে বাংলাদেশের সাথে একজোটে উদ্যোগ নিতে পারত।
  8. ভারতের দলগুলোর অনীহা: ভারতের দলের মুখে (কংগ্রেস আর বিজেপি উভয়েই তা স্বীকার করলেও আঞ্চলিক দলগুলো নির্বিকার) এই প্রসঙ্গ উঠলেও তা দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এমনকি বাংলাদেশ সফরেও এনারা সেই প্রসঙ্গ তোলেন না! অবশ্য আঞ্চলিক দলের স্থানীয় স্বার্থ আর আপন স্বার্থ দেখতেই ব্যস্ত, দেশের স্বার্থে তারা বিচলিত নয় আর তাই বাংলাদেশের স্বার্থ দেখার প্রশ্ন ওঠে না, হলেই বা প্রতিবেশী!
  9. ভারতের দুর্বল বিদেশনীতি: যে দেশের সরকার (৯০এর দশকে কংগ্রেসের আমলে) স্বাধীন দেশে (কাশ্মীরি পণ্ডিতদের) আপন রাজ্য হতে গণহত্যা আর গণনির্বাসন রুখতে পারে না (সদিচ্ছার অভাবে, ক্ষমতার অভাবে নয়), এমনকি প্রায় ৩০ বছর ধরে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে চূড়ান্ত ব্যর্থ, যারা চিনের জিংজিয়াঙ বা তিব্বত বা হংকং নিয়ে কোনো কথা বলতেও ভয় পায় আর চিন অরুনাচল নিয়ে বললে তুষ্টিকরণে মেনে পড়ে, তারা প্রতিবেশী দেশের সরকারকে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সাহায্য করবে এটা যারা ভাবেন তারা কষ্ঠকল্পনা করছেন।