Skip to main content
Wasimul Haque Anis
নতুন তথ্যর সন্ধানে,
Asked a question 7 months ago

একটা কনফিউশিং প্রশ্ন, দাশ এবং দাস এর মধ্যে পার্থক্য কী?

কোথায় আপনি?

এই MSB Ask কমিউনিটিতে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবেন, উত্তর দিতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তাই নতুন হলে সাইনআপ করুন, আর আগেই থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগিন করুন।  

Mahmudul Hasan Ashik
Student | Blogger | Tech Lover

দাস শব্দটি দ্বারা গোলাম বা চাকর বোঝয়। কিন্তু দাশ দ্বারা হিন্দু ধর্মের একটি সম্প্রদায় বোঝায়।

দাস শব্দটি দ্বারা সাধারণত গোলাম বা চাকর বোঝয়। কিন্তু দাশ দ্বারা হিন্দু ধর্মের জেলে সম্প্রদায় বোঝায়। 

দাস বলতে গোলাম কে বোঝায় যেমন কৃতদাস।  

আর দাশ বলতে হিন্দুদের একটা সম্প্রদায় কে বোঝায় ।

Mohammad Alif
Digital Marketer | Philosophy Enthusiast

দাস - গোলাম

দাশ - সম্প্রদায় 

দাস শব্দটি দ্বারা সাধারণত গোলাম বা চাকর বোঝয়। কিন্তু দাশ দ্বারা হিন্দু ধর্মের একটি সম্প্রদায় বোঝায়। খুব সম্ভবত জেলে পাড়ার লোকদের দাশ বলা হয়।

যেমন জীবনানন্দ দাশ।

 

 

 

একটা কনফিউশিং প্রশ্ন,
দাশ এবং দাস এর মধ্যে পার্থক্য কী?

 

কবি জীবনানন্দ দাশের পদবী হচ্ছে দাশ, দাস নয়। তার পদবীর বানানে শ হয়, স নয়। যারা জীবনানন্দের মহাভক্ত তাদের সাধারণত এই বিষয়টাতে খুব একটা ভুল হয় না। তবে, অন্যদের যে ভুল হয় না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

কবি জীবনানন্দ দাশের পদবী হচ্ছে দাশ, দাস নয়। তার পদবীর বানানে শ হয়, স নয়। যারা জীবনানন্দের মহাভক্ত তাদের সাধারণত এই বিষয়টাতে খুব একটা ভুল হয় না। তবে, অন্যদের যে ভুল হয় না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

জীবনানন্দ দাশের পদবীর বানানে এখন তেমন একটা ভুল না হলেও, জীবিত থাকাকালে অনেকেই তার পদবীর বানান লিখতে গিয়ে ভুল করতেন।

জীবনানন্দ নিজেও তার পদবীর বানান নিয়ে খুবই স্পর্শকাতর ছিলেন। শুধু জীবনানন্দ কেনো, প্রায় সব মানুষই তার নামের বানান নিয়ে স্পর্শকাতর হয়ে থাকেন। কেউ শ এর বদলে স লিখলে, জীবনানন্দ খুবই বিরক্ত হতেন, চটে যেতেন, মনে কষ্ট পেতেন।

কবি কিরণশংকর সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘জীবনানন্দের নাম লিখতে গিয়ে কেউ তার পদবীটা দাশ না লিখে দাস লিখলে, তিনি বিরক্ত হতেন। একদিন তিনি এ প্রসঙ্গত আমাকে বললেন, - দেখুন না, সাহিত্যিকদের অনেকেই আমার নামটা ঠিক করে লিখতে পারেন না। পদবীর বানানটায় তারা প্রায়ই ভুল করেন।

অথচ মজার বিষয় কি জানেন? জীবনানন্দের পদবী আসলে দাসই। তিনি কলেজ জীবন পর্যন্ত দাসই ছিলেন। এমনকি তার এম এ-র সার্টিফিকেটেও পদবী হিসাবে দাস লেখা আছে। তার মা কুসুমকুমারী দেবীও কবিতা লিখতেন। ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় তার যে সব কবিতা প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোতে নাম লেখা আছে কুসুমকুমারী দাস। ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় জীবনানন্দেরও কবিতা ছাপা হয়েছে। সেখানেও তার নাম লেখা আছে জীবনানন্দ দাস।

প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি দাস থেকে দাশ হলেন কবে?

এখানেও প্যাঁচ আছে। তিনি দাস থেকে আসলে দাশ হননি। বরং হয়েছিলেন দাশগুপ্ত। কলেজ জীবনের শেষ দিকে তিনি যে সমস্ত লেখা পাঠাতেন, সেগুলোতে তিনি নাম লিখতেন জীবনানন্দ দাশগুপ্ত। শুধু লেখাতেই নয়, নিজের নাম হিসেবেও তিনি জীবনানন্দ দাশগুপ্তই বলতেন।

জীবনানন্দের বিয়ে হয় বাংলা ১৩৩৭ সালে। বিয়ের আগে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি তার ভাবি স্ত্রী লাবণ্যকে। সেখানেও তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে। লাবণ্য দেবী তার মানুষ জীবনানন্দ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, জ্যাঠামশায় আমাকে বললেন – এই যে মা এসো আলাপ করিয়ে দিই। এর নাম জীবনানন্দ দাশগুপ্ত। দিল্লী থেকে এসেছেন।

এখন তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ালো, এই দাশগুপ্ত আবার এলো কোথা থেকে?

আসলে জীবনানন্দ দাশদের মূল পদবী ছিলো দাসগুপ্ত। সেখান থেকেই এই দাশগুপ্ত এসেছে। এ প্রসঙ্গে জীবনানন্দের ছোট ভাই অশোকানন্দ বলেন, আমার ঠাকুরদা ব্রাহ্ম হয়ে জাতিভেদ মানতেন না বলে নিজের পদবী থেকে বৈদ্যত্বসুচক গুপ্তটা বাদ দিয়েছিলেন। দাদাও অনেকটা ঐ একই যুক্তিতে আবার এক সময় আমাদের পদবির সঙ্গে গুপ্তটা বসিয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন– আগে আমরা বৈদ্যই থাকি, আর যাই থাকি, এখন তো আর আমরা জাতিভেদ মানি না। অতএব শুধু শুধু মূল পদবীটাকে বদলেই বা লাভ কি? এই বলে তিনি ঠাকুরদার আমলের ত্যাগ করা গুপ্তটাকে আবার পদবীর শেষে বসিয়েছিলেন। তবে দাদা ওই সময় দাসগুপ্ত না লিখে দাশগুপ্ত লিখতেন। এর কারণ, আমার মনে আছে, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ একবার বৈদ্যজাতির লোকদের বলেছিলেন – বৈদ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে যাদের পদবী দাস অথবা দাসগুপ্ত তারা দাস, দাসগুপ্তের বদলে দাশ, দাশগুপ্ত লিখলেই ভাল হয়। দেশবন্ধু নিজেই বৈদ্য ছিলেন বলে নিজেও নাম লিখতেন – চিত্তরঞ্জন দাশ।

তো বোঝা গেলো তিনি কীভাবে দাস থেকে দাশগুপ্ত হলেন। এইবার শেষ প্রশ্ন, দাশগুপ্ত থেকে আবার গুপ্ত ছুটে গেলো কখন?

১৩৩৪ বাংলা সালে তার প্রথম গ্রন্থ 'ঝরাপালক' প্রকাশিত হয়। এতে তার নাম ছিলো জীবনানন্দ দাশ। দাশগুপ্তের বদলে দাশকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন কীর্তিমান হবার জন্যে।

তিনি দাশ হলেও দাসের হাত থেকে মুক্তি পেতে তার অনেক সময় লেগেছে। তিনি দাশ লিখলেও প্রেসের কম্পোজিটর, প্রুফ রিডার বা সম্পাদক প্রায় সময়ই দাশ কেটে দাস বানিয়ে দিতেন। ১৩৩৮ সালে পরিচয় পত্রিকায় তার ক্যাম্পে নামের কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিলো। সেখানে তার নাম লেখা হয়েছিলো জীবনানন্দ দাস।

এখন অবশ্য ভদ্রলোককে আর এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। বিখ্যাত হলে এই এক সুবিধা। রেহমান, রাহমান, দাশ যাই লেখেন না কেনো, তাই সই হয়ে যায়।

ফরিদ আহমেদ: ভূতপূর্ব শিক্ষক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে টরন্টোতে বসবাসরত।