Skip to main content
Mohammad Alif
Digital Marketer | Philosophy Enthusiast
Asked a question 9 months ago

ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্ট ক্রিস্টিয়ানিটির মধ্যে পার্থক্য কী?

কোথায় আপনি?

এই MSB Ask কমিউনিটিতে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবেন, উত্তর দিতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তাই নতুন হলে সাইনআপ করুন, আর আগেই থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগিন করুন।  

১. ক্যাথোলিক অর্থ 'সার্বজনীন' ও প্রটেস্টেন্ট অর্থ 'আন্দোলনকারী'। খ্রিষ্টানদের মধ্যে ক্যাথোলিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।   

২. ক্যাথোলিকেরা যীশু খ্রিষ্টের মূর্তি ও বিভিন্ন ছবি বানিয়ে প্রার্থনা করে। প্রটেস্টেন্টরা যীশুকে পূজা করার সময় কোনো ধরনের মূর্তি কিংবা ছবি ব্যবহার করে না। চার্চে মূর্তির সামনে প্রার্থনা করা প্রটেস্টেন্টদের জন্য সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।

৩. ক্যাথোলিক মতে যীশু খ্রিষ্ট্রের উপর বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি পাপ কাজের জন্য ক্ষমা না চাইলে পরকালে মুক্তি মিলবে না। প্রটেস্টেন্ট মতানুসারে যীশু খ্রিষ্ট অলরেডি মানুষের পাপের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন। তাই একমাত্র যীশু খ্রিষ্ট্রের উপর বিশ্বাসই যথেষ্ট পরকালে মুক্তির জন্য।

৪. ক্যাথোলিকেরা একজন পোপ (ধর্মগুরু) নির্বাচন করেন যাকে সম্মানের দিক থেকে যীশু খ্রিষ্টের পরেই স্থান দেয়া হয়। চার্চের প্রধান হচ্ছে পোপ। পোপ ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপন করে এটাই ক্যাথোলিকদের বিশ্বাস। প্রটেস্টেন্টরা কোনো পোপ নির্বাচন করে না। চার্চের প্রধান হচ্ছে পোপ এটাও মানে না। তাদের বিশ্বাস চার্চের প্রধান হচ্ছে যীশু খ্রিষ্ট। কোনো পোপ নয়।

৫. কিছু ক্যাথোলিকেরা যীশুর পাশাপাশি মৃত বিভিন্ন ধর্ম যাজকদের (খ্রিষ্টান পীর দরবেশ) কাছেও প্রার্থনা করে। প্রটেস্টেন্টরা মৃত ধর্মগুরুদের কাছে প্রার্থনা করে না। একমাত্র যীশু খ্রিষ্টের কাছে প্রার্থনা করে প্রটেস্টেন্টরা।

৬. ক্যাথোলিক মতে মা ম্যারি ছিলেন একেবারে নিষ্পাপ এক নারী। উনি জীবনে কোনো পাপ করেন নি। প্রটেস্টেন্টদের মতে মা ম্যারি নিষ্পাপ ছিলেন না। একমাত্র যীশু খ্রিষ্টকেই নিষ্পাপ মানে প্রটেস্টেন্টরা।

৭. ক্যাথোলিকদের বাইবেলের ৭৩ বইয়ের কালেকশনের মধ্যে সবগুলো বই প্রটেস্টেন্টরা গ্রহন করে না। ক্যাথোলিকদের বাইবেলের ৭ টি বই বাদ দেয় প্রটেস্টেন্টরা।

Mahmudul Hasan Ashik
Student | Blogger | Tech Lover

এই দুই গোষ্ঠী’র খৃষ্টানগণই যিশু খ্রিস্ট প্রদর্শিত ধর্মের বেসিক প্রিন্সিপালগুলো মেনে চলেন, তথাপি তাদের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রোটেস্ট্যান্টগন মনে করেন ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত পবিত্র বাইবেল হলো একটি সম্পূর্ণ বিধান এবং একমাত্র বাইবেলের শিক্ষাই জগতের পাপীগনের মুক্তিলাভ করার জন্য যথেষ্ট। তাদের মতে সকল ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হল বাইবেল। প্রোটেস্ট্যান্টদের এই ধারনার উৎস হল পাঁচ প্রত্যাদেশ । যার একটি  প্রত্যাদেশ ‘Sola Scriptura’ যার মানে পবিত্র বাইবেল অনুসরণ করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন নির্দেশিত পথ নাই । এছাড়া পাবিত্র বাইবেলের বিভিন্ন জায়গায়ও একাধিকবার তাদের মতবাদের পক্ষে যুক্তি আছে বলে প্রোটেস্ট্যানগন মনে করেন। কিন্তু ক্যাথলিকগন এই ধারণা সঠিক মনে করেন না। তাদের মতে পবিত্র বাইবেলের পাশাপাশি রোমান ঐতিহ্যগত অনুশাসনও একজন খ্রীস্টানের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য । ক্যাথলিকরা সার্বজনীনতায় বিশ্বাসী , তারা মনে করেন ‘রোমান ক্যাথলিক চার্চ’ হচ্ছে সেই গির্জা যা মূলত যীশু’র মনোনীত শিষ্য দ্বারা প্রতিষ্টিত। তারা প্রভু যীশু এবং বাইবেল নির্দেশিত পথ মেনে চলেন এবং যুগপৎ  খ্রীষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রধান হিসাবে পোপের কর্তৃত্বকে স্বীকার করেন । ক্যাথলিকগন মনে করেন ‘পোপ’ তিনি সকল গির্জার প্রধান,  Vicar of Christ অর্থাৎ যীশুর প্রতিনিধি । তারা মনে করেন  পোপ নির্দেশিত সকল শিক্ষা ও বাণী নির্ভুল এবং খ্রীস্ট  ধর্মবিশ্বাস ও  জ্ঞান চর্চায় ‘পোপ’ কোন ভুল করতে পারেন না । অন্যদিকে প্রোটেস্ট্যান্টগন তা মানতে নারাজ , তাদের বক্তব্য পোপ একজন মানুষ, তিনি ঈশ্বর প্রেরিত কোন দূত নন , তাই তিনি ভুলের উর্ধ্বে নন । প্রোটেস্টানরা ক্যাথলিকদের মতো পৌরহিত্য করেন না । সামাজিক আচার , রীতি কিংবা অনুষ্ঠান পালনে যাজক হিসাবে তারা সর্বজন বিশ্বাসভাজন কারও উপর তার দায়িত্ব অর্পন করতে চান । ক্যাথলিকরা ঈশ্বর-যীশু ছাড়াও অনেক সাধু সন্তদের উদ্দেশ্য প্রার্থনা করেন। প্রোটেস্ট্যান্টরা সাধু সন্তদের উপর বিশ্বাস রাখলেও তাদের উদ্দেশ্যে  প্রার্থনা করেন না । এছাড়া আরও কিছু ধর্মাচার , যেমন হলিওয়াটার, সেলিবাচি, যন্ত্রনাভোগ ও নানে শুধুমাত্র ক্যাথলিকরা বিশ্বাস করেন। প্রোটেস্ট্যান্টরা মনে করেন পাপমোচন বা মুক্তি লাভের লাভের একমাত্র উপায় ঈশ্বরের উপাসনা । ক্যাথলিকরাও তেমনটাই বিশ্বাস করেন তবে পাশাপাশি সাতটি পবিত্র স্যাকরাম্যন্টের / গির্জা কর্ত্তৃক নির্দেশিত ধর্মাচার  দ্বারা অনুগ্রহ লাভের প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করেন  ক্যাথলিকগণ । তন্মধ্যে ব্রিটিশ ব্যাপ্টিস্ট গণ মনে করেন একজন শিশু জন্মের পরেই প্রভু যিশুকে হৃদয়ঙ্গম কিংবা ধারন করার যোগ্য হয়ে উঠে না । শুধু মাত্র প্রাপ্তবয়স্ক হলে সে জীবন দর্শণ পাপ-পুণ্য সম্পর্কে সম্যক ধারনা অর্জনে সক্ষম হয় । তাই তারা ‘Adult baptism’  -এ বিশ্বাস করে । ব্যাপ্টিস্টগণ বিশ্বাস করেন ‘infant baptism’ বাইবেলের কোথাও বর্ণিত হয় নি । কিন্তু ক্যাথলিকরা ইনফ্যান্ট ব্যাপ্টিজম বা অভিসিঞ্চনে বিশ্বাস করে ।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া ।

ক্যাথলিক মানে সর্বজনীন। এক সময় ছিল হজরত ঈসার উম্মত মানে রোমান ক্যাথলিক তথা খ্রিস্টান। হজরত ঈসার বেহেস্তে চলে যাবার পর, তাঁর উম্মতেরা সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে প্রথম দলভিত্তিক এবাদত যেহেতু রোম দেশের জেরুজালেমেই শুরু হয়, সেহেতু কারণে অকারণে রোমই যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়। রোমের জেরুজালেম জামাতকে ঘিরে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে ঈসার উম্মতেরা ক্যাথলিক খ্রিস্টান নামে বৃদ্ধি পেতে থাকে। রোমের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, নেতারা ক্রমে অনৈতিকতার দিকে পা বাড়ায় আর এই ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য অনেক নিয়মকানুন গড়ে তোলে। কালক্রমে নেতারা কিতাবের পাশাপাশি কিছু রীতিনীতি ও নিয়ম বেঁধে দিতে শুরু করে। এইভাবে চলতে চলতে একসময় ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে অনেকে আল্লাহর কালামকে ভুলে গিয়ে, রীতিনীতি ও নিয়মনির্ভর হয়ে ওঠে এবং অন্যায় অবিচারে সমাজ কলুষিত হয়। ফলে ঈসার উম্মতের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করলেও ভুলশিক্ষার কারণে পাপাচারও বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনও সময় আসে, যখন ধর্মীয় নেতারা বেহেশতের টিকেট বিক্রি থেকে শুরু করে, হেন অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। কিতাবুল মোকাদ্দসের কোন গুরুত্বই ছিল না। সাধারণ লোকদের কিতাব পড়া নিষিদ্ধ ছিল। কিতাবের শিক্ষা বাদ দিয়ে তারা মানুষের মনগড়া নানা নিয়ম-নীতি পালনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বলা যায়, ঈসায়ী সমাজে তখন এক অন্ধকারময় অবস্থা বিরাজ করছিল।

এমনি অস্বস্তিকর সময় একজন নির্ভীক লোককে আল্লাহ ব্যবহার করেছিলেন, যার নাম মার্টিন লুথার। তিনিই সর্বপ্রথম অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং খ্রিস্টিয় সমাজে মানুষের গড়া নিয়মের পরিবর্তে, আল্লাহর কালামকে প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে, কালাম ভিক্তিক যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অর্থাৎ অনাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রটেস্ট বা প্রতিবাদ করেন। অনেক আলাপ-আলোচনা, বাক-বিতণ্ডা, যুক্তিতর্কের পর, মার্টিন লুথার তাঁর সমর্থকদের নিয়ে, রোমান ক্যাথলিকদের মধ্য থেকে বের হয়ে আসেন। চিরাচরিত কিতাব বহির্ভূত পন্থার বিরুদ্ধে প্রোটেস্ট করেন বলে, তাদেরকে প্রটেস্টান নাম দেয়া হয়। এই প্রোটেস্টান দলের মধ্যে আবার কালামের গুরুত্বের দিক ঠিক রেখে, কিছু বিশ্বাসগত মতভেদ দেখা দেয়। ফলে প্রটেস্টান দল লুথারেন, এ্যাংলিক্যান, প্রেসবিটারিয়া, ব্যাপ্টিস্ট ইত্যাদি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে প্রোটেস্টান দলের মধ্যে ছোটখাটো কিছু মতভেদ থাকলেও প্রত্যেক দলই হজরত ঈসার মসীহত্ব ও প্রভুত্ব স্বীকার করে এবং এই বিষয়ে কোন আপোষ করে না।