Skip to main content
Question
Zarif Mahmud
Simple man
Asked a question 5 months ago

সমুদ্র এবং সাগর এর মধ্যে পার্থক্য কি?

কোথায় আপনি?

এই MSB Ask কমিউনিটিতে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবেন, উত্তর দিতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তাই নতুন হলে সাইনআপ করুন, আর আগেই থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগিন করুন।  

সাগর সমুদ্র সমার্থক শব্দ। তবে মহাসাগর ও সাগরের মধ্যে পার্থক্য আছে।

সাধারণত পৃথিবীতে বিস্তৃর্ণ জলরাশিকে মহাসাগর বলে। অপেক্ষাকৃত বিশাল জলরাশির সমষ্টি হল মহাসাগর। আর সাগর হল অপেক্ষাকৃত কম জলরাশির সমাহার যা তিনদিক থেকে স্থল দিয়ে ঘেরা। যেমনঃ ক্যারিবিয়ান সাগর।

সমুদ্র এবং সাগর সমার্থক শব্দ তার সাথে মহাসাগর ও মহাসুমদ্র সমার্থক শব্দ।

পার্থক্য আছে সাগর ও মহাসাগরের ভিতরে। 

সমুদ্র একটি লবণ জল একটি ছোট এলাকা, যা সাধারণত আংশিক জমি দ্বারা আবদ্ধ। একটি সমুদ্রের একটি ছোট অংশ হিসাবে সমুদ্রের নামকরণ করা যেতে পারে এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার যে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্রটি যখন পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম সমুদ্রের তুলনায় খুবই ছোট। বিশ্বের বৃহত্তম সাগর ভূমধ্য সাগর এবং এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম সমুদ্রের এক চতুর্থাংশ, আর্কটিক মহাসাগর। বস্তুত, পৃথিবীর অনেকগুলি সমুদ্র রয়েছে।

মহাসাগরের তুলনায় সমুদ্রে অগভীর হয়। সমুদ্রের ক্ষেত্রে গভীরতার অভাবের কারণ হল যে তারা সাধারণভাবে জমিদারের কাছাকাছি। যখন এটি জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে আসে, তখন সমুদ্রের শয্যা আলোর উপর নির্ভরশীল উদ্ভিদ এবং প্রাণীদের স্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমুদ্রের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হল যে মানুষ স্কুবা গিয়ারের সাহায্যে সমুদ্রের বেডে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারে। 

পুরো পৃথিবীকে একটা পানির বিন্দু ভাবুন। পানির এই বিন্দুটির উপর সাতটা টেকটোনিক প্লেট, বিন্দুটির সর্বপার্শ্বে জাহাজের মতো করে ভাসছে।

এখন এই প্লেট গুলোর অবস্থিতির বাহিরের বিশাল জলধি পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থেকে সাতটি অঞ্চলে বিন্যস্ত, যার সার্ফেসের সাম্য এক, যাকে আমরা ওয়াটার লেভেল বলি। এই অন্ঞ্চলগুলোকে আমরা সমুদ্র বলি। এর বাহিরে ভূমি দ্বারা আবদ্ধ পানির বিপুল অবস্থিতি গুলো হলো সাগর

সমুদ্র মানে মহাসাগর। এর জন্য আমরা বলি ৭ সমুদ্র

 

 

সমুদ্র বা বিশ্ব মহাসাগর হল লবণাক্ত জলের4 পরস্পর সংযুক্ত জলরাশি5, যা পৃথিবীর উপরিতলের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ আবৃত করে রেখেছে। সমুদ্র পৃথিবীর জলবায়ুকে সহনীয় করে রাখে এবং জলচক্র9, কার্বন চক্র5নাইট্রোজেন চক্রে4 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ সমুদ্র পরিভ্রমণ করছে ও সমুদ্রাভিযান চালিয়ে আসছে। তবে সমুদ্র-সংক্রান্ত বিজ্ঞানসম্মত চর্চা বা সমুদ্রবিজ্ঞানের2 সূচনা ঘটে মোটামুটিভাবে ১৭৬৮ থেকে ১৭৭৯ সালের মধ্যে ক্যাপ্টেন জেমস কুকের2 প্রশান্ত মহাসাগর অভিযানের সময়। "সমুদ্র" শব্দটির মাধ্যমে অবশ্য বিভিন্ন মহাসাগরের ছোটো এবং আংশিকভাবে ভূ-বেষ্টিত অংশগুলিকেও বোঝানো হয়ে থাকে।

সমুদ্রের জলে সর্বাধিক পরিমাণে যে ঘনবস্তু দ্রবীভূত অবস্থায় রয়েছে, তা হল সোডিয়াম ক্লোরাইড3। এছাড়া অন্যান্য অনেক মৌলের সঙ্গে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম3, ক্যালসিয়াম2পটাসিয়ামের2 লবন2। কয়েকটি মৌল রয়েছে অতিসূক্ষ্ম কেন্দ্রীভূত অবস্থায়। সমুদ্রজলের লবণাক্ততা2 সর্বত্র সমান নয়। পৃষ্ঠতল ও বড়ো বড়ো নদীর মোহনার কাছে জলের লবণাক্ততা কম; অন্যদিকে সমুদ্রের গভীরতর অংশে লবণাক্ততা বেশি। যদিও বিভিন্ন মহাসাগরগুলির5 মধ্যে দ্রবীভূত লবনের আপেক্ষিক অনুপাতের পার্থক্য কমই হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠতলের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু তরঙ্গ2 সৃষ্টি করে। সেই তরঙ্গ সমুদ্রের অগভীর স্থানে প্রবেশ করে ভেঙে পড়ে2। সমুদ্রের উপরিতলের সঙ্গে বায়ুর ঘর্ষণের ফলে সমুদ্রস্রোতেরও সৃষ্টি হয়। এই সমুদ্রস্রোতগুলি ধীরগতিতে অথচ নিয়মিতভাবে মহাসাগরগুলির মধ্যে জল প্রবাহিত করে। মহাদেশগুলির গড়ন ও পৃথিবীর আবর্তন (কোরিওলিস প্রভাব2) ইত্যাদি কয়েকটি কারণ এই প্রবাহের অভিমুখ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্ব পরিবহণ বেষ্টণী2 নামে পরিচিত গভীর-সমুদ্রস্রোতগুলি মেরু অঞ্চল থেকে ঠান্ডা জল প্রত্যেকটি মহাসাগরে বহন করে আনে। নিজের অক্ষের চারিদিকে পৃথিবীর আবর্তন, পৃথিবীর চারিদিকে পরিক্রমণরত চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ বল, সামান্য পরিমাণে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে সাধারণত দিনে দু’বার সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান ও পতন ঘটে। এই ঘটনা জোয়ার-ভাটা2 নামে পরিচিত। উপসাগর ও নদীর মোহনায় জোয়ার-ভাটার মাত্রা অত্যন্ত বেশি হয়। মহাসমুদ্রের নিম্নবর্তী ভূগর্ভে ভূসাংগাঠনিক পাতের2 নড়াচড়ার ফলে সমুদ্রের তলদেশে ঘটা ভূমিকম্পের2 ফলে বিধ্বংসী সুনামির2 উদ্ভব ঘটে। অবশ্য আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, প্রবল ভূমিধ্বস অথবা উল্কাপিণ্ডের2 সংঘাতেও অনেক সময় সুনামির সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়া2, প্রোটিস্ট2, শৈবাল6, উদ্ভিদ, ছত্রাক5 ও প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। এই জন্য সমুদ্রে একটি বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক বাসস্থান2বাস্তুতন্ত্র2 গড়ে উঠেছে। এই জাতীয় বাসস্থান ও বাস্তুতন্ত্র সমুদ্রের উপরিতলের সূর্যালোকিত জলভাগ ও তটরেখা থেকে উল্লম্বভাবে শীতল ও অন্ধকার সমুদ্রতলস্থ ক্ষেত্রের2 জলের উচ্চচাপযুক্ত সুগভীর অংশ এবং উত্তর মেরু2 অঞ্চলের বরফের তলায় স্থিত শীতল জল থেকে অক্ষরেখা বরাবর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বর্ণবৈচিত্র্যময় প্রবাল প্রাচীরগুলি2 পর্যন্ত প্রসারিত রয়েছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বেশ কিছু প্রধান গোষ্ঠীর বিবর্তন ঘটেছে সমুদ্রে। জীবনের উৎপত্তিও2 সম্ভবত সমুদ্রেই ঘটেছিল।

সমুদ্র মানবজাতিকে প্রচুর খাদ্য সরবরাহ করে। এর মধ্যে মাছই2 প্রধান। তবে শেলফিস2, স্তন্যপায়ী প্রাণী3সামুদ্রিক শৈবাল2 পাওয়া যায় সমুদ্র থেকে। এগুলি হয় জেলেরা জাল ফেলে ধরে অথবা জলের তলায় চাষ করা2 হয়। এছাড়াও মানুষ সমুদ্রকে ব্যবহার করে বাণিজ্য2, পর্যটন খনিজ উত্তলোন2, বিদ্যুৎ উৎপাদন2, যুদ্ধ2সাঁতার2, প্রমোদ ভ্রমণ2স্কুবা ডাইভিং2 ইত্যাদি অবকাশ যাপনের কাজে। এই সব কাজকর্মের জন্য সমুদ্র দূষিত2 হয়। মানব সংস্কৃতিতেও সমুদ্রের গুরুত্ব অসীম। হোমারের5 ওডিসি5 মহাকাব্যের যুগ থেকে সাহিত্যে, সামুদ্রিক শিল্পকলায়2, থিয়েটারে ও উচ্চাঙ্গ সংগীতে সমুদ্রের উপস্থিতি লক্ষণীয়। পৌরাণিক সাহিত্যের2 সিলা5 ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষেত্রে সমুদ্র প্রতীকীভাবে দৈত্য হিসেবে চিত্রিত হয়েছে এবং অচেতন মন5স্বপ্ন ব্যাখ্যার2 প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।