Skip to main content
Mohammad Alif
Digital Marketer | Philosophy Enthusiast
Asked a question 7 months ago

Software engineering আর CSE এর মধ্যে কোনটি ভালো বেশি?

কোথায় আপনি?

এই MSB Ask কমিউনিটিতে আপনি যেকোনো প্রশ্ন করতে পারবেন, উত্তর দিতে পারবেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারবেন। তাই নতুন হলে সাইনআপ করুন, আর আগেই থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগিন করুন।  

Ahammod Abdullah Rushan
Student ; Knowledge seeker ; Article writer ; Blogger.

  আমার জানা মতে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং হলো কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিস্তর পাঠ্যসূচির একটি অন্যতম অধ্যায় মাত্র। 

যদি কম্পিউটার বিজ্ঞানের সব স্তর সম্পর্কেই পড়তে ও জানতে চান তবে সিএসই নিয়েই পড়াটা ভালো হবে। সেক্ষত্রে আপনি সফটওয়্যার নিয়েও পড়তে ও শিখতে পারবেন।  আর যদি লক্ষ্য থাকে যে শুধু সফটওয়্যার নিয়েই পড়বেন ও তা নিয়েই কাজ করবেন, তবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারেন। সেক্ষেত্রে সফটওয়্যার নিয়েই বেশি পড়াশোনা করতে পারবেন। 

Subject review : Software Engineering(SWE), IICT, SUST

Why Software Engineering?
প্রতিদিনই তোমরা মোবাইল, কম্পিউটার বা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইসে কোনো না কোনো অ্যাপ(Facebook, Instagram, Uber, Pathao, Foodpanda, Google, Youtube etc.) চালাও, গেমস(PUBG, Mobile Legends, COD, CSGO, Pokemon GO, Dota 2 etc.) খেলো, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করো। কখনো কি ভেবে দেখেছো এগুলার পিছনে কারা কাজ করে যাচ্ছে? কারা বানাচ্ছে এই সার্ভিসগুলো? সল্ভ করে যাচ্ছে আমাদের লাইফের একেকটা সমস্যা?
কেমন লাগবে নিজেকে এদের জায়গায় দেখতে!!! কেমন লাগবে তোমার বানানো গেম,অ্যাপ পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের ডিভাইসে থাকলে!!! Google, Apple, Mircosoft এর মতো টেক জায়েন্টদের সাথে কাজ করতে!!!
তোমাদের এইসব স্বপ্ন পুরোনের জায়গাটিই হলো Software Engineering(SWE) সাব্জেক্টির নাম শোনার পরে অনেকের মনে অনেক রকম প্রশ্ন জাগতে পারে। রিভিউটি জুড়ে এসব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে যাবো।

Software Engineering(SWE) at IICT, SUST
সাবজেক্টটি DU, JU, RU, IUT, NSTU সহ আরো বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে IIT, IT, ICE, ICT, SWE, SE এসব নামে চালু আছে। আমাদের সাস্টে SWE সাবজেক্টটি IICT(Institute of Information and Communication Technology) এর আওতাধীন একমাত্র ডিপার্টমেন্ট। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইন্সটিটিউটের অধীনে ডিপার্টমেন্ট আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মধ্যে পার্থক্য কি?
এক কথায় ইন্সটিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছোট আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়। IICT এর রয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা প্রশাসন, বিল্ডিং, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি। উদাহরন স্বরূপ তোমরা ঢাবির IBA,IIT এর কথা চিন্তা করতে পারো।
সাস্ট SWE তে তোমরা চতুর্থ ব্যাচ হিসাবে ভর্তি হতে যাচ্ছো। এখন প্রশ্ন চলেই আসে, নতুন ডিপার্টমেন্ট হিসাবে আমাদের কোনো ল্যাকিংস আছে কিনা? আমার মনেও এই প্রশ্ন জেগেছিল।
আমি তোমাদের আশ্বস্ত করতে পারি, সাবজেক্টটি IICT এর আওতাধীন হওয়ায় কোনোকিছুতে কমতি নেই। টিচার, ল্যাব ফ্যাসিলিটি, ক্লাসরুম সবকিছুতেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রত্যেক ব্যাচের জন্য রয়েছে আলাদা ল্যাব, ক্লাসরুম। এছাড়াও দুইটি আলাদা কম্পিউটার ল্যাব ২৪/৭ ব্যবহারের জন্য আছে।যার ফলে দিন রাত যেকোনো সময় সবাই কাজ করতে পারে বা যাদের পিসি নেই তারাও সমান তালে আগাতে পারে।

এখানে কি কি পড়ানো হয়...
এখানে আসলে তোমাকে ফার্স্ট ইয়ার থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে যে সকল প্রধান কোর্স সমূহ পড়ানো হবে-
-স্ট্রাকচারড প্রোগ্রামিং
-ডিসক্রিট ম্যাথমেটিক্স
-অব্জেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং
-কম্পিউটার আর্কিটেকচার
-কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং
-অ্যালগরিদম
-অপারেটিং সিস্টেম ও সিস্টেম প্রোগ্রামিং
-সফটওয়্যার আর্কিটেকচার
-ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট
-সফটওয়্যার ইউজাবিলিটি, ভেরিফিকেশন ও ভ্যালিডেশন
-ডাটা সাইন্স
-নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি
-ওয়েব টেকনোলজিস
-আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
-ইমেইজ প্রোসেসিং ইত্যাদি ইত্যাদি!
সাথে অপশনাল কোর্স হিসেবে বেছে নেওয়া যাবে মেশিন লার্নিং, নিউরাল নেটওয়ার্ক, ডিপ লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, বায়ো-ইনফর্মেট্রিক্স, ক্রিপ্টোগ্রাফি সহ আরো বেশ কিছু কোর্স থেকে কয়েকটা। এগুলোর সাথে ফার্স্ট ইয়ার থেকেই পড়ানো হবে বাংলা, ইংলিশ, ফিজিক্স, ম্যাথ, ইইই, স্ট্যাট, সোসিওলজি, বিজনেস, ethics and cyber law, ইকোনোমিক্স সহ বেশ কিছু নন মেজর কোর্স। এক কথায়, তোমাকে পুরোপুরি অলরাউন্ডার সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার বানিয়ে দিবে!!! ৪ বছরে ৮ টা সেমিস্টার এ ১৬০ ক্রেডিট এর কোর্স কমপ্লিট করার পর B.Sc23.(Engg.) in Software Engineering ডিগ্রি নিয়ে বের হবা সাস্ট থেকে!
পুরো কোর্স প্ল্যান দেখতে চাইলে এই লিংক থেকে ঘুরে আসো - https://www.sust.edu/institutes/iict/curriculum/1037
৮ টি সেমিস্টারের ৫ টি তে তোমাদের একটা করে Project work কোর্স থাকবে যেখানে তোমরা দুইজনের টিম করে ডেস্কটপ/এন্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য গেমস,অ্যাপস,ওয়েবসাইট বানানোর সুযোগ পাবে।৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে না তোমাকে নিজের বানানো সফটওয়্যার ইউজ করতে :D। তোমরা আরো জেনে খুশি হবে, এই বছর থেকে প্রতি ব্যাচের তিনটি টিম সরাসরি ইন্ডাস্ট্রির আন্ডারে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে এই Project Work কোর্সে ইন্টার্নশিপের আগেই!

ভাই CSE আর SWE এর মধ্যে পার্থক্য কি?(The most asked question XD)
CSE আর SWE মূলত এক মায়ের পেটের দুই জমজ ভাই এর মতো! তবে দুই জমজ ভাই হলেও তফাত তো কিছু আছেই। সংক্ষেপে বলতে গেলে CSE থিউরিটিকাল পড়ালেখা কে সামান্য একটু বেশি গুরত্ব দেয়, অন্যদিকে SWE গুরত্ব দেয় প্র্যাক্টিক্যাল সাইটের দিকে যার ফলে তৈরি হয় ইন্ডাস্ট্রি রেডি ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট। এখানে তোমাকে সফটওয়্যারের উপর স্পেলাইজড করে তোলার জন্য ৮ টি ইউনিক মেজর কোর্স রয়েছে। যা তোমাকে গ্রাজুয়েশনের পরেই ইন্ডাস্ট্রি রেডি করে তুলবে।
এছাড়াও শুধুমাত্র SWE তেই তোমরা সবাই ফোরথ ইয়ারে ৬ মাসের জন্য ঢাকায় দেশের বড় বড় সফটওয়্যার কম্পানিগুলোর সাথে ইন্টার্ন হিসাবে(স্যালারী সহ) কাজ করার সুযোগ পাবে যা পরবর্তিতে তোমার পার্মানেন্ট জব ও হয়ে যেতে পারে। গ্র্যাজুয়েট হিসাবে বের হওয়ার আগে এটা অনেক বড় একটা সুযোগ যা তোমাকে নিঃসন্দেহে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে। আমি যখন এই পোস্ট লিখসি ১স্ট ব্যাচের ভাই আপুরা তখন Selise Rockin’ Software,Orbitax,Cefalo,Shohoz, Brain Station 23 এর মতো দেশি বিদেশি কম্পানিতে ইন্টার্ন হিসাবে জয়েন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

ভাই ভার্সিটিতে তো শুনসি কোনো প্যারা নাই,শুধু চিল আর চিল।এখানেও কি তাই?
অনেক তো সুন্দর সুন্দর কথা বললাম,এখন অল্প একটু হতাশ করি তাহলে। চিল অবশ্যই হবে কিন্তু এই সাবজেক্টে পড়ে ভালো করতে তোমার প্রথম ভালোবাসা হতে হবে প্রোগ্রামিং, প্রবলেম সল্ভিং। তাই বলে ২৪ ঘন্টা মুখ গুজে প্রোগ্রামিং করতে হবে এমনও ভেবে নিও না। আমরা কিন্তু কিছুতেই পিছিয়ে নেই।Intra IICT Football Tournament এ পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন SWE। প্রতি বছরই আমরা কালচারাল নাইট, ন্যাশনাল ট্যুর, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ফুটবল টুর্নামেন্ট সহ আরো অনেক কোকারিকুলার এক্টিভিটির আয়োজন এবং অংশগ্রহণ করে থাকি।
যারা প্রোগ্রামিং এ আগ্রহী, তাদের জন্য সুখবর, তোমরা অসাধারন কিছু ট্যালেন্টেড প্রোগ্রামার সিনিয়র পাবা, যাদের কাছে যেকোনো ধরনের হেল্প চাইতে পারবা। আর সাস্ট থেকে প্রায় প্রতি বছর ই ACM ICPC এর World Final এ অংশগ্রহণ করে।
শুধু কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংই নয়, সফটওয়্যার ডেভোলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইনিং, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি সব দিকেই আমাদের বিচরন আছে। এছাড়া সারাবছর নানা ধরনের প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, হ্যাকাথন, প্রজেক্ট শোকেসিং সহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতা তো আছেই। তোমরা জেনে খুশি হবে আমারা শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই চারটি ন্যাশনাল হ্যাকাথনে পুরস্কার অর্জন করেছি। হতে পারে কোনো এক সময় তুমিও কোনো এক শিরোপা এনে দিলে সাস্টকে।

জব সেক্টর কেমন?
কম্পিউটার সাইন্স যেকোনো সাবজেক্টের জব সেক্টরের কথা আলদা করে এখন আর বলতে হয় না। সবথেকে গ্রোয়িং জব সেক্টর এখন এইটা, সেটা পৃথিবীর যে দেশই হোক না কেন। আমাদের দেশও এর ব্যাতিক্রম না। এখানে একটা কথা চলে আসে, সাস্ট SWE তো IEB Accredited কোনো সাবজেক্ট না, তাহলে কি জবে বা রিসার্চে কি কোনোভাবে পিছিয়ে থাকবো আমরা? IT Related এর জব সেক্টরে বা রিসার্চে একজনের স্কিল, প্যাশন এবং ক্রিয়েটভিটি টাই মুখ্য এখানে IEB Accredietion বিন্দুমাত্র ম্যাটার করে না। আর SWE ইন্ডাস্ট্রিকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার ফার্মগুলোর সাথে কোলাবরেশন, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম সম্পন্ন করে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে এবং এর ফলস্বরূপ, ফ্রেশ গ্রাজুয়েট এবং ইন্ডাস্ট্রির মাঝে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠছে।আর সফটওয়্যার স্প্লেশালাইজড কোর্স এবং ইন্টার্নশিপের কারনে তুমি ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট হিসাবে বের হলেও তোমার অন্যান্যদের তুলনায় অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও ভারী থাকবে।

SWE এ ভর্তি হতে চাইলে মেরিট পজিশন কত এর ভিতর হওয়া লাগবে?
এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। এ বছর সাস্টে অ্যাডমিশন টেস্ট এবং রেজাল্ট অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে হয়ে যাওয়ায় সামান্য একটু বেশি দূর পর্যন্ত টানতে পারে, তবে পজিশন ৬০০ এর ভিতরে থাকলে কিছুটা শিওর থাকতে পারো, SWE পাবা।প্রতিবছর সিচুয়েশন একরকম থাকে না।তবে এইটা জেনে রাখো গত দুই বছরই CSE এর পরে SWE শেষ হয়ে যায়।

শুন্য আর একের জগতে তোমাদের স্বাগতম,দেখা হচ্ছে খুব শীঘ্রই।

Software Engineering & CSE এর মধ্যে পার্থক্য স্বরূপ পর্যালোচনা করে এটা বলা যায় যে , যেকোনো বিষয় বা ক্ষেত্রে নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা , পরিশ্রম আর মেধার মিশ্রনে ভালো করা সম্ভব তবে যুগ বিবেচনায় যেই ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বেশি থাকবে সেই ক্ষেত্রই তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে । 

Sayemur Rahman
Former Chief Web Content Developer of AUDD | Support Engineer at. DroitLab Ltd.

আমার মতে, সফটওয়্যার অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্যে টাইম লিমিটেশন এর কথা চিন্তা করলে এবং দ্রুত ডিসেন্ট কিছুতে এক্সপার্ট হতে হলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বেষ্ট... আর যদি পুরো টেকনোলোজিকে পার্ট বাই পার্ট গ্যাদার করার ইচ্ছে থাকে প্লাস টাইম এর কোন লিমিটেশন না থাকে তাহলে অবশ্যই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বেষ্ট... আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনেক বড় পার্ট, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং সেখানে ছোট্ট একটা অধ্যায় মাত্র... 

বাংলাদেশে এই শব্দটা খুব ইজি, যে কেউ যে কোন জায়গায় নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠান বানাচ্ছে আর ইঞ্জিনিয়ার এর নামে বলদ বানাচ্ছে... শিক্ষক নিজে যদি ইঞ্জিনিয়ার বানান করতে না পারে তাহলে তিনি আর কোন মাপের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবেন! আর সব মিলিয়ে সব দিক থেকে চিন্তা করলে ২ টাই বেষ্ট, যেটা যার সাথে ভালো ভাবে খাপ খাবে... 

আপনার কাছে যেটা ভালো মনে হবে সেটাই

Wasimul Haque Anis
নতুন তথ্যর সন্ধানে,

দুইটাই তো রিলেটেড মনে হয়। তাপরেউ জানা মতে software engineering এ ভেলু বেশি। কিন্তু তুলনা মুলক এটা একটু কঠিন ও বটে।

Md. Asadullah
Freelancer and Tech Blogger

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে Software engineering এবং CSE তে অলমোস্ট সিমিলার সিলেবাস এ পড়ায়। তবে Software engineering এ, কয়েকটি সফটয়্যার সাবজেক্ট বেশী থাকে যেটা cse তে হার্ডওয়ার এর ১-২টি সাবজেক্ট থাকে।

যদি একবারে ডিটারমাইন থাকেন যে চাকরী করবেন, হায়ার স্টাডি করবেন ই না, সেক্ষেত্রে Software engineering ভালো চয়েজ। কিন্তু বাইরে যেতে চাইলে, একাডেমিক লাইনে থাকতে চাইলে, নেটওয়ার্কিং লাইন এ গেলে CSE ভালো।

যদিও, ২টা সাবজেক্ট থেকেই সব যায়গা মুভ করা যায়। 

Software engineer কেননা এতে উল্টা পাল্টা জিনিস পড়ে সময় নষ্ট হয় না বরং কেরিয়ার এর জন্য যা প্রয়োজন তাই শিখবেন

সিএসই পড়ব, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ্যে কোনটা ভালো হবে? এই প্রশ্ন আমার ইনবক্সে, বইয়ের ফেসবুক পেজে, বিভিন্ন গ্রুপে দেখতে দেখতে আমি হয়রান। উত্তরটা লিখে দেই এখানে। উত্তর পছন্দ হলে কেউ এই প্রশ্নটা করলে তাকে উত্তরটা দিয়ে দিবেন। লক্ষ রাখতে হবে, আমার বক্তব্য কেবল সিএসই বা অনুরূপ বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য, আর এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত।     বাংলাদেশে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার দুইটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়া, দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আরেকটা অবশ্য আছে, সার্টিফিকেট পাওয়া, তবে তারা আমার আলোচনার বিষয়বস্তু না।

যারা কম্পিউটার বিজ্ঞানী হবে, তারা যেকোনো একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেই হয়, কারণ আমাদের দেশের কোনো প্রাইভেট ভার্সিটিই বিদেশে খুব পরিচিত নয়। তাই এখানে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না। যেখান থেকেই পড়, জিপিএ ভালো থাকলে এবং জিআরই-টোফেলে ভালো স্কোর থাকলে তোমার সুযোগ থাকবে।

এবার আসি যারা সফটওয়্যার তৈরির কাজ করতে চাও। ভালো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ অনেক (দেশে এবং বিদেশে) আর বেতনও ভালো। আমি যদ্দূর জানি, এই কারণেই পোলাপান সিএসই পড়তে চায়।

ধরা যাক, বাংলাদেশে ৮০টা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে, এবং সেগুলোর একটা ranking করা হলো। এখন সমান মেধার দুই বন্ধুর একজন ১ নম্বর ভার্সিটিতে পড়ল, আরেকজন পড়ল ৮০ নম্বর ভার্সিটিতে। ৮০ নম্বরেরটায় যে পড়বে, সে যদি ঠিকমতো প্রোগ্রামিং শেখে, চর্চা করে, সফটওয়্যার তৈরির কলাকৌশল সম্পর্কে খোঁজখবর রাখে, আর ১ নম্বর ভার্সিটিতে পড়ুয়া বন্ধু যদি কেবল গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাহলে ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রথম জন, যে ৮০ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। কারণ সফটওয়্যার প্রকৌশলবিদ্যায় ভালো করতে হলে কাজ জানা প্রয়োজন এবং পরিশ্রমীরাই এখানে ভালো করে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে, শিক্ষকরা কেমন। কথা হচ্ছে, কম্পিউটার সায়েন্স কিন্তু অন্য বিষয়ের মতো নয়, যে অমুক ভার্সিটিতে ভালো পড়ায়, তাই সেখানের শিক্ষার্থীরা ভালো। বেশিরভাগই নিজে নিজে শিখতে হয়, শিক্ষক কেবল অনুপ্রেরণা দেন। এখানে একজন তরুণ শিক্ষকও অনেক অনুপ্রেরণা দিতে পারেন, আবার পিএচইডি করা শিক্ষকও শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়বস্তু বোরিং করে তুলতে পারেন। তাই ডিগ্রীর দিকে না তাকিয়ে খোঁজ নিতে হবে, কোন ভার্সিটিতে এমন শিক্ষক বেশি যারা মনমানসিকতায় তরুন, শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন – অনেকটা Dead Poets Soceity-এর মিস্টার কিটিংসের মতো। শিক্ষকরাই পারেন অন্যরকম একটি কালচার তৈরি করতে।

এছাড়া যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে :
খরচ : শুধু টিউশন ফি ছাড়াও ভার্সিটিতে আরো অনেক খরচ থাকে। তাই খুব ভালো করে খোঁজ নিতে হবে।
যাতায়াত : বাসা থেকে দূরত্বের ব্যাপারটিও হিসাবে আনতে হবে। ভার্সিটিতে যাতায়াত করতে প্রতিদিন রাস্তার তিনঘণ্টা সময় ব্যায় করা কোনো সৃজনশীল ছাত্রের কাজ হতে পারে না। ব্যপারটি অস্বাস্থ্যকরও বটে।
বন্ধু : তোমার ভালো বন্ধুরা কোথায় পড়বে, সেটাও একটা বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।

আর ভর্তি হওয়ার পরে ক্লাস শুরুর আগ পর্যন্ত যে সময়টা পাওয়া যায়, সেসময়ে একটা প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে ফেললে সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে ক্লাস শুরু হলে কোনো চাপ পরে না, নইলে প্রোগ্রামিং নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। আর এই বিষয়গুলো শিক্ষক ক্লাসে পড়ান আর নাই পড়ান, নিজে নিজে পড়ে বা বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে আয়ত্বে আনতে হবে। এগুলো না শিখলে রেজাল্ট ভালো হলেও বিপদে পড়বে।

স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং, অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং, ডিসক্রিট ম্যাথমেটিকস, ডাটা স্ট্রাকচার, অ্যালগরিদম, ডাটাবেজ, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, ওয়েব প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার অ্যানালাইসিস ও ডিজাইন। মোটামুটি সব ভার্সিটিতেই এগুলো পড়ায়। এসব বিষয়ে ওস্তাদ হয়ে যেতে হবে।

আর ক্যারিয়ার বিষয়ক এই লেখাটাও দেখতে পারো :  http://blog.subeen.com/?p=17517

তোমাদের জীবন সুন্দর হোক, ভালো প্রোগ্রামার হও, পাশ করে ভালো চাকরি পাও, অনেক টেকাটুকা কামাও, এই দোয়া রইল।

 

বর্তমান হিসেবে software engineering ভাল হবে